স্কুলে যেতে না পারার আক্ষেপ নয়ন মিয়ার, অর্থাভাবে থমকে আছে দুই চোখের চিকিৎসা
- আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১১:১৫:০৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১১:১৫:০৩ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে দিন কাটানোর কথা - সেই বয়সে ঘরের বিছানায় শুয়ে কিংবা চেয়ারে বসে সময় কাটছে ১৩ বছরের নয়ন মিয়ার। দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে এখন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া ঘর থেকেও বের হতে পারে না সে। দারিদ্র্যের কারণে থমকে আছে তার উন্নত চিকিৎসাও।
নয়ন মিয়া তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটি জামালগড় গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের ছেলে। কয়েক বছর আগেও অন্য শিশুদের মতোই স্বাভাবিক ছিল তার জীবন। স্কুলে যেত, খেলাধুলা করত। কিন্তু প্রায় আট বছর আগে খেলতে গিয়ে কাঁঠালগাছের নিচে বসে থাকার সময় হঠাৎ অজ্ঞাত একটি বস্তু তার চোখে পড়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে নয়নের জীবন। ধীরে ধীরে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে সে।
নয়ন এখন দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারে না। পৃথিবীর রং, আলো কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য - কিছুই দেখেনি সে। শুধু অনুভব করতে পারে আলো-বাতাসের উপস্থিতি। ঘরের বাইরে যেতে হলে প্রয়োজন হয় অন্যের সহযোগিতা।
আক্ষেপ করে নয়ন মিয়া বলে, স্কুলে যাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু চোখে দেখতে না পাওয়ায় কিছুই করতে পারি না। জীবনটা যেন যন্ত্রের মতো হয়ে গেছে।
নয়ন জানায়, তার মা-বাবার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে চাকরি করবে সে। একদিন মা-বাবার জন্য একটি বড় বাড়ি তৈরি করবে - এমন স্বপ্নও ছিল তার। কিন্তু চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। এখন প্রতিদিন মায়ের কাছে চোখের চিকিৎসার জন্য বায়না ধরে সে।
নয়নের বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় আট বছর আগে দুর্ঘটনার পর নয়নের চোখের সমস্যা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করলেও অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি। একপর্যায়ে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তিই হারিয়ে যায় তার ছেলের।
তিনি বলেন, আমাদের নিজের কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে ঘর তুলে পরিবার নিয়ে থাকি। সংসারে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়। তার ওপর আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারি না। তাই ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
নয়নের মা সারজিনা বেগম বলেন, উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে আমার ছেলে হয়তো আবার চোখের আলো ফিরে পেতে পারে। আমি মারা যাওয়ার আগে ছেলের চোখের আলো দেখে যেতে চাই। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের কাছে আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নয়নের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। অর্থের অভাবে একটি শিশুর চোখের চিকিৎসা থেমে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে নয়নের চিকিৎসা করানো সম্ভব হতে পারে। এতে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পেতে পারে শিশুটি।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, নয়নের পরিবার সত্যিই দরিদ্র ও অসহায়। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা নয়নের পাশে দাঁড়ালে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, নয়নের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হবে। তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ